Thursday, 9 November 2017

পীর মুরিদী শির্ক

পীর মুরিদী শির্ক
*লেখক, মাওঃ হাবিবুর রহমান *সংগ্রহেঃ আবু মাহফুজ আব্দুস সালাম



পীর মুরিদী শির্ক
*লেখক, মাওঃ হাবিবুর রহমান *সংগ্রহেঃ আবু মাহফুজ আব্দুস সালাম

০১. ভূমিকাঃ
মহান আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের জন্যই যাবতীয় ভূয়ুশী প্রশংসা যিনি আমাদেরকে উত্তম মানুষরূপে সৃষ্টি করেছেন এবং শিরক থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। দুরূদ সালাম ও শান্তি বর্ষিত হউক মহান নাবী ও রাসূল মুহাম্মাদ (সা)-এর প্রতি যিনি জীবনের প্রায় পুরোটা সময় শিরক বিরোধী সংগ্রামে ব্যয় করেছেন। সকল সাহাবা, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীসহ সকল মুসলিম ব্যক্তিগণের প্রতিও শান্তি বর্ষিত হউক।

০২. পীর চোখ বন্ধ করে পৃথিবীর সর্বত্র সবকিছুই দেখতে পানঃ
     ********************************************
পীর চোখ বন্ধ করলে তামাম দুনিয়ার সব কিছু: আসমান, জমীন, আরশ কুরসী সবই দেখতে পান মুরিদদের অবস্থাও তাদের অজানা থাকেনামুরিদ বিপদে পড়লে পীরের কথা স্মরণে নিয়ে সাহায্য চাইলে পীর মুরিদদের উদ্ধার করেণ

* উল্লেখিত বিশ্বাসের পুরোটাই শির্ক যারা এই ধরণের বিশ্বস পোশন করে তারা নিশ্চিত মুশরেককারণ, সব কিছু দেখা, মানুষের অবস্থা জানা, আল্লাহকে বাদ দিয়ে বিপদে পড়ে পীরের কাছে সাহায্য চাওয়া ও পীর মুরিদকে উদ্ধার করার ক্ষমতায় বিশ্বাস শির্ক  
এদেশের প্রায় সকল পীরদের বই পুস্তকে, বিভিন্ন বয়ানে, ওয়াজ মাহফিলে এই রকম শির্কি কিচ্ছা অহরহ শোনাযায়

০৩. "ওয়াহদাতুল উযুদ", "ওয়াহদাতুশ শুহুদ বা ফানাফিল্লাহ"
      *****************************
* ওয়াহদাতুল উযুদঃ সুফিদের আকিদা হলো, বান্দা ইবাদত করতে করতে এমন এক পর্জায় পৌছে যায় তখন সে দুনিয়ার সব জায়গায় সকল বস্তুর মাঝে আল্লাহর অিস্তিত্ব দেখতে পানপ্রতিটি বস্তুই আল্লাহর অস্তিত্বের অংশ বলে প্রতিয়মান হয়, এটার নাম হলো ওয়াহদাতুল উযুদ

* ওয়াহদাতুশ শুহুদ বা ফানাফিল্লাহঃ বান্দা তারচেয়েও বেশী ইবাদতে করতে করতে এক পর্যায়ে বান্দা আল্লাহর অস্তিত্বের মাঝে বিলিন হয়ে যায়, আল্লাহ ও বান্দার মাঝে তখন আর কোন ব্যবধান থাকেনা (নাউজুবিল্লাহ) এর নাম ওয়াহদাতুশ শুহুদ বা ফানাফিল্লাহ

* দাজ্জাল, কাজ্জাব, মুরতাদ ও যাদুকরঃ হোসাইন ইবনে মনসুর হাল্লাজ; যার শির্ক ও কুফরীর জন্য বাগদাদের আলেমদের সম্মিলিত ফতোয়ায় এই কুখ্যাত ধর্মদ্রোহীকে মৃত্যু দন্ড দিয়ে তার লাশ রাস্তার পাশে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল  
এই মুনছুর হাল্লাজ নাকি আল্লাহর অস্তিত্বের মাঝে ফানা (বিলিন) হয়ে যেতএবং সে ঐ অবস্থায় নিজেকেই আল্লাহ বলে দাবী করতোএই খোদাদ্রোহীর ভ্রান্ত শির্কী আকীদা "ফানা ফিল্লায়" বিশ্বাসী এই দেশের প্রায় সকল ফীরেরা ও তাদের মুরীদরাতাদের লিখিত বই পুস্তক, বয়ান ও ওয়াজ মাহফিলে এই মুনসুর হাল্লাজকে আল্লাহর ওলী বলে গৌরবের সাথে তারা প্রকাশ করেআমার মনে হয় ২০/২৫ বছর পর দেওয়ান বাগীকেও একদল হক্কানী পীর আল্লাহর জবরদস্ত ওলী হিসেবে স্বীকার করে নিবেকারণ এরাই হেল্লাজির যোগ্য উত্তর সূরী

০৪. গাউছ, কুতুব, আবদাল ও নুজাবায় বিশ্বাসঃ
    ********************************
* গাউছ, কুতুব, আবদাল ও নুজাবায় বিশ্বাসঃ সুফীরা বিশ্বাস করে যে, পৃথিবীতে কতিপয় আবদাল, কুতুব এবং আওলীয়া আছেন, যাদের হাতে আল্লাহ তাআলা পৃথিবী পরিচালনার কিছু কিছু দায়িত্ব সোপর্দ করে দিয়েছেনসুতরাং তারা তাদের ইচ্ছামত পৃথিবীর কাজকর্ম পরিচালনা করে থাকেন

* তাবলীগি নেসাব ‘‘ফাযায়েলে আমাল’’ বইয়ে এই ধরণের একটি ঘটনা উল্লেখ আছেঘটনার বিবরণ এই যে, ‘‘হজরত শাইখুল হাদীস বলেছেনঃ আমি আমার আব্বাজানের নিকট প্রায়ই একটা ঘটনা শুনতামউহা এই যে, জনৈক ব্যক্তি বিশেষ কোন প্রয়োজনে পানি পথে যাইতেছিলপথিমধ্যে যমুনা নদী পড়িল, তাহার অবস্থা তখন এত ভয়ঙ্কর ছিল যে, নৌকা চলাও মুশকিল ছিল, লোকটি পেরেশান হইয়া গেললোকজন তাহাকে বলিল অমুক জঙ্গলে একজন কামেল লোক থাকেন, তাহার নিকট গিয়া স্বীয় প্রয়োজন পেশ করতিনি নিশ্চয়ই কোন ব্যবস্থা করিবেনতবে তিনি প্রথমে রাগ করিবেনতাহাতে তুমি নিরাশ হইও নালোকটি তাহাদের কথায় জঙ্গলের মধ্যে গিয়া দেখিলেন সেই দরবেশ তাহার বিবি-বাচ্চাসহ একটি ঝুপড়ির মধ্যে বাস করিতেছেসেই ব্যক্তি স্বীয় প্রয়োজন ও যমুনার অবস্থা বর্ণনা করিল, দরবেশ প্রথমে অভ্যাস মোতাবেক রাগ করিয়া বলিল, আমার হাতে কি আছে? আমি কি করিতে পারি? লোকটি কান্নাকাটি করিয়া আপন সমস্যার কথা বলিল, তখন দরবেশ বলিলঃ যাও, যমুনার কাছে গিয়া বলঃ আমাকে ঐ ব্যক্তি পাঠাইয়াছে, যে জীবনে কখনও কিছু খায় নাই এবং বিবির সহিত সহবাস করে নাইলোকটি যমুনায় গিয়া দরবেশের কথা জানাইলযমুনা তাহার কথা মত শান্ত হইয়া গেলসেই লোকটি পার হইয়া যাওয়ার পর যমুনা আবার ভীষণ আকার ধারণ করিল’’ [দেখুনঃ ফাযায়েলে আমাল, দ্বিতীয় খন্ড, ১৬২ পৃষ্ঠা]।

* প্রিয় পাঠক বৃন্দ লক্ষ্য করুনঃ এটি এমন একটি বিশ্বাস যা মক্কার মুশরিকরাও পোষণ করতো নাতারা যখন সাগর পথে ভ্রমণ করার সময় বিপদে আক্রান্ত হত, তখন তারা সকল দেব-দেবীর কথা ভুলে গিয়ে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য এক মাত্র আল্লাহকেই ডাকতোআল্লাহ তা‘আলা মক্কার মুশরিকদের সেই কথা কুরআনে উল্লেখ করে বলেনঃ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺭَﻛِﺒُﻮﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔُﻠْﻚِ ﺩَﻋَﻮْﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣُﺨْﻠِﺼِﻴﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻧَﺠَّﺎﻫُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺒَﺮِّ ﺇِﺫَﺍ ﻫُﻢْ ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮﻥَ
‘তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্কে ডাকেঅতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শরীক করতে থাকে। [সূরা আনকাবুতঃ ৬৫।]

* অথচ বর্তমান সময়ের অসংখ্য মুসলিমকে দেখা যায়ঃ যে, তারা চরম বিপদের সময়ও আল্লাহকে বাদ দিয়ে কল্পিত অলী-আওলীয়াদেরকে আহবান করে থাকে, যা মক্কার মুশরিকদের শির্ককেও হার মানিয়েছেকেননা মক্কার লোকেরা শুধু সুখের সময়ই আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করতো, কিন্তু বিপদের সময় তারা সেগুলোকে ভুলে গিয়ে এক মাত্র আল্লাহকেই ডাকতোআর বর্তমান সময়ের অনেক মুসলিম উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর সাথে শির্ক করছেএদিক থেকে মূল্যায়ন করলে দেখা যায় বর্তমানের মাজার পূজারী মুসলিমের শির্কের চেয়ে মক্কার আবু জাহেল ও আবু লাহাবদের শির্ক অধিক হালকা ছিলমোটকথা মক্কার মুশরিকদের তাওহীদে রুবুবীয়া সমপর্কে যে অগাধ বিশ্বাস ছিল তা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ
‘‘হে নবী! আপনি জিজ্ঞেস করুন, তোমাদেরকে আসমান থেকে ও যমীন থেকে কে রুযী দান করেন? কিংবা কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? তাছাড়া কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন এবং কেইবা মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? কে করেন কর্ম সমপাদনের ব্যবস্থাপনা? তখন তারা বলে উঠবে, আল্লাহ! তখন তুমি বলো, তারপরেও ভয় করছ না?’’ [সূরা ইউনুসঃ ৩১।]

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা আরও বলেনঃ
ﻳُﺪَﺑِّﺮُ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ
‘‘তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন।’’ [সূরা সাজদাঃ ৫।]

* এখানে বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে, ﻏﻮﺙ : অর্থ হচ্ছে ত্রাণকর্তাএটি আল্লাহর গুণকোন মানুষ গাউছ হতে পারে না
* ঢাকা শহরের মহাখালীতে মাসজিদে গাউছুল আযম নামে বিশাল একটি মসজিদ রয়েছেআমরা সকলেই জানি এখানে গাউছুল আযম দ্বারা বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানীকে বুঝানো হয়েছে

* الغوث العظم (আল-গাউছুল আযাম) অর্থঃ হচ্ছে মহান ত্রাণকর্তাযারা আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) কে মহা ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন হলো, তারা কি এ ধরণের কথার মাধ্যমে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) কে আল্লাহর সমান করে দেন নি? শুধু তাই নয় সুফীদের একটি দল বিশ্বাস করে যে, বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী নিজ হাতে লাওহে মাহফুযে নতুন করে বৃদ্ধি করতে বা তা থেকে কিছু কমানোরও অধিকার রাখেন (নাউযুবিল্লাহ)।

0৫. কুতুবুল আলম, কুতুবুল আকবর, কুতুবুল এরশাদ, কুতুবুল আকতাব
     ****************************************************
কুতুবুল আলম, কুতুবুল আকবর, কুতুবুল এরশাদ, কুতুবুল আকতাবএগুলো হলো সুফিবাদের নিজস্ব পরিভাষাএগুলো সম্পর্কিত আকিদা শির্কে পরিপূর্ণ 
* قطب (কুতুব( বলা হয়ঃ একসময় ধান, চাল, গম ইত্যাদি গুড়ো করার জন্য ঝাঁতা ব্যবহার করা হতো সিমেন্ট দিয়ে তৈরী গোলাকৃতি ঐ বস্তুটি হাত দিয়ে ঘুরাতে হতোঘুরানোর জন্য একটি শক্ত কাঠি ব্যবহার করা হতোকাঠি ছাড়া তা ঘুরানো বা নাড়ানো সম্ভব হতোনাঐ কাঠিকে আরবিতে قطب (কুতুব) বলা হয়
* সুফিদের বিশ্বাস মোতাবেকঃ ঝাঁতা যেমন কাঠি ছাড়া ঘুরেনা, তেমনি কুতুব ছাড়াও এই যগৎ ঘুরেনা। তাই এযগৎ পরিচালনায় আল্লাহ কুতুব নিয়োগ দিয়েছেনতাদের ছাড়া দুনিয়াও ঘুরেনা বা চলেনাকুতুবরা যেভাবে চালায় যগৎ সেভাবে চলে 
* বিশ্বাসটা মূর্তি পূজারী হিন্দুদের থেক সুফিরা নিয়েছে; হিন্দুরাও মনে করে, ভগবান যগৎ পরিচালনায় দেব-দেবী নিয়োগ করেছে যেমন: বিদ্যার দেবী শরস্বতি, ধন দৌলতের দুর্গা ইত্যাদি 

* মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর লিখিতঃ ‘তালিমুদ্দিন’ কিতাবের উদৃতি দিয়ে মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন তার ‘ইসলামী আকিদা ও ভ্রন্ত মতবাদ’ নামক বইতে লিখেছেন" কুতুবদের একেক জনকে আলমে গায়েবের মধ্যে আব্দুল্লাহ নামে আখ্যায়িত করা হয়এদের দুইজন করে উযির থাকেন, যাদেরকে ইমামাইন বলা হয়ডানের উযিরের নাম আব্দুল মালেক এবং বামের উযিরের নাম আব্দুর রবএছাড়াও আরো বার জন কুতুব থাকেন, সাতজন থাকে সাত মহাদেশে, এদেরকে কুতুবে বেলায়েতও বলেএ নির্দিষ্ট কুতুবরা ছাড়াও অনির্দিষ্ট কুতুব প্রত্যেক শহরে এবং প্রত্যেক গ্রামে একজন করে থাকে [দেখুন: মাওলানা হেমায়েতুদ্দিন লিখিত ইসলামী আকিদা ও ভ্রন্ত মতবাদ ১৭৫ নং পৃঃ দ্রষ্টব্য]।
* কুতুব সম্পর্কীয় উক্ত ধারণার সাথে কুরআন ও সুন্নাহর দুরতম সম্পর্ক নাই এসব কথা অনুমান নির্ভরবাতিল ধর্মীয় মতবাদএগুলো পূর্ব বর্তী ও বর্তমান যুগের মুশরেকদের চরিত্র যে, তারা ধর্মের ব্যপারে আন্দাজ ও অনুমানের আশ্রয় নেয়

* মুসলমানদের বিশ্বাসঃ
يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ إِلَى ٱلْأَرْضِ
‘তিনি একক ভাবে আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন’। [সূরা সাজদাহ : 05]।

০৬. পীর মুরিদীর হাতে অনেক শির্ক-এর আভির্ভাবঃ
     *************************************
পীর মুরিদীর হাত ধরে মুসলিম সমাজে যে শির্কের বিস্তার ঘটছে তার অনেক কিছুই হিন্দু মুশরেকদের সাথে সামান্জস্যপূর্ন 
* "সুফিদের মধ্যে যেমন গাউস, কুতুব, নজিব, আবদাল, ওলী, ফকির, দরবেশকে বড় বড় বুজুর্গ ও আলৌকিক ক্ষমতার উৎস বলে মনে করা হয় তেমনি হিন্দুদের মধ্যে মুনি, ঋষি, মহাত্না, অবতার, সাধু, সন্ত, যোগী, সন্ন্যাসী, শাস্রিকেও বড় বড় বুজুর্গ ও আলৌকিক ক্ষমতার উৎস বলে মনে করা হয়

* হিন্দুদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থাবলীরঃ ভাষ্যমতে ‘‘এসকল বুজুর্গরা অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ সম্পর্কে বলতে পারেস্বর্গে যখন খুশি দৌড়ে যেতে পারেতারা এমন ক্ষমতা রাখে যে চাইলে দুনিয়ার পাহাড় সমুহ উঠিয়ে এক নিমিষে নদিতে ফেলে দিতে পারেশত্রুকে চোখের ফলকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিতে পারেএরা খুশি হলে পুরো শহরকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।" [আর্য শাস্রের ভূমিকা : পৃষ্ঠা: ৯৯-১০০]।

* ঠিক এর হুবহু বিশ্বাস সুফিদেরওঃ ‘‘তাদের ওলী দর্বেশদের ব্যপারেও তারা একই ধরণের খোদায়ী ক্ষমতা সম্পন্ন বহু মিথ্যা কাহিনী রটনা করে মূর্খ অনুসারীদের কাছে একেক জনকে দেবতা তূল্য করে রেখেছে’’। তাদের বিশ্বাসঃ গাউস, কুতুবরাও অসাধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন’’। হাজার মাইল দূরের বিপদগ্রস্থ মুরিদকে সাহায্য করতে পারে, যখন যেখানে খুশি মহুর্তের মধ্যে পৌছে যেতে পারেআরশ কুরসি, বেহেস্ত দোযখ যখন খুশি ঘুরে আশতে পারেএমনকি জান্নাত থেকে ফলের ঝুড়ি মর্তে এনে অনেকে মুরিদানকে খাওয়ানোর গল্পও শোনা যায়

* তাওয়াজ্জুহে এত্তেসালিঃ (বিশেষ ক্ষমাতসম্পন্ন দৃষ্টিশক্তি) প্রয়োগ করে মানুষের দিলের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারেএক হক্কানি পীরের! বইতে পড়েছি এক বুজুর্গ রুটি বিক্রেতাকে (তার নাম ‘নান ভাই’) তাওয়াজ্জু প্রয়োগ করে তার দিল এমনকি চেহারা পর্যন্ত পরিবর্তন করে দিয়েছেনএমন বহু উদ্ভট মিথ্যা কাহিনী সকল পীরের দর্বারে হর হামেশা শুনতে পাবেন

০৭. পীর মুরিদী শির্কী প্রথাঃ
     ******************
* পীর মুরিদীর প্রথাই একটা শির্কী প্রথাঃ প্রমাণঃ ‘পড়ুন বিশ্বাসের পরিশুদ্ধির জন্য’।
"পীর সাহেব কেবলা যখন যে আদেশ করিবেন তাহাতে কোন প্রকার কিলোকাল না করিয়া অর্থাৎ নিরাপত্তিতে তাহা করিতে থাকিবেন।" দলীল হিসেবে সূফিদের ধর্মগ্রন্থ "মসনবী শরীফ" থেকে উদৃতি দিয়েছেনযেখানে বলা হয়েছে: "শরীয়তে কামেল পীর সাহেব যদি এমন কোন হুকুম দেন, যাহা প্রকাশ্য শরীয়তের খেলাফ হয়, তবুও তুমি তাহা নিরাপত্তিতে আদায় করিবে।" - ("আশেক মাশুক" পৃষ্ঠা : ৩৫)]।

উক্ত কথা গুলো এদেশের একমাত্র স্বঘোষিত হক্কানী পীরের এই যদি হয় হক্কানি পীরের আকিদা , তাহলে টক্কানি পীরদের আকীদা কেমন হবে; তা ভাবতেই গা শিউরে উঠে

* এই বিশ্বাস সম্পর্কে একটু বিশ্লেষন করি:
উক্ত বিশ্বাস সকল শির্কের মূলব্যক্তির অন্ধ অনুসরণতারচেয়েও ভয়াবহ হলো; 
* আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশই শরীয়ত
* আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশের বিপরিত নির্দেশ যদি পীর সাহেব দেন; মুরিদরা আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ অমান্য করে পীরের কথা মান্য করবে
* এগুলো শুধু শির্ক নয়; কুফরিও বটে

* ঠিক এই একই রোগ ছিল ইহুদী ও খৃষ্টানদেরতারা তাদের ধর্ম গুরুদের কথাকে চুড়ান্ত বলে গ্রহণ করতো;আল্লাহ ও তার রাসুলের কথাকে অগ্রাজ্য করতোফলে তারা একটি মুশরেক শ্রেনীতে পরিনত হয়েছেএই পীর মুরিদীর রীতিও একই পথে চালিত হচ্ছে। এদের কতিপয় সুন্দর আমলে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে

* আকিদায় শির্ক থাকলেঃ কোন সুন্নত-নফল, ফরজ আমল আল্লাহ গ্রহণ করবেননাসকল আমলই বরবাদ হবেএকটি শির্ক নিয়ে যদি কেউ মৃত্যু বরণ করে সে চিরকালের জন্য জাহান্নামী হবেতাই শির্কের সন্দেহ, গন্ধ যেখানে পাবেন তা ঘৃণাভরে বর্জন করবেনকোন দল বা ব্যক্তির অন্ধ মোহ যেন আপনাকে মুশরেকদের কাতারে টেনে না নেয়বিবেককে কোন পীরের খানকায় বন্ধক না রেখে কুরআন সুন্নার জন্য উৎসর্গ করুন প্রকাশ্য শরীয়তকে গ্রহণ করুণপীরের শরিয়ত বিরোধী সকল নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করুণ

০৮. কথিত হাক্কানী পীর ‘মানসুর হাল্লাজ’ থেকে ঢাকা জেলাধীন দোহার উপজেলার বহুল পরিচিত ও কথিত ‘হজ্জ বাবা’ পর্যন্ত একই সূত্রে গাথাঃ
মানসুর হাল্লাজকে তার যুগের খলীফা চারটি কারেণ হত্যা করেনঃ
  ক. أﻧﺎ اﻟﺤﻖ (আনাল হক) ‘আমিই একমাত্র সত্য’ বলার কারেণে তথা রুবুবীয়াত ও উলুহীয়াতের দাবী করার কারেণ 
  খ. ইসলামী শরীয়েত নিষিদ্ধ যাদু চর্চা করার কারেণ 
  গ. শরীয়েতের ফরজ বিধান অস্বীকার করার কারেণমানসুর হাল্লাজ থেক কর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ‘কোন বেক্তি হজ্জ করতে চাইলে সে যদি তার বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণ করে হজ্জের মৗসুমে তার তাওয়াফ করে তাতেই যথেষ্ট হবে’। 
  ঘ. কারামেতা তথা বাতেনী সম্প্রদায়ের দিকে আহবান জানানোর কারেণ
* কারামেতা সম্প্রদায়ঃ প্রকাশ্যে ইসলামের কথা বলেলও তারা ছিল মূলতঃ গোপনে অগ্নি পূজকএই সম্প্রদায় ৩১৯ হিজরী সালে কাবা ঘরে হামলা চালিয়ে হাজীদেরকে অকাতরে হত্যা করেছিল, যমযম কুপ ধ্বংস করে দিয়েছিলো এবং হাজারে আসওয়াদ চুরি করে নিয়েছিলো২০ বছর পর্যন্ত মুসলিমগণ হাজারে আসওয়াদ বিহীন কাবা ঘরের তাওয়াফ কেরেছিল 
* আমাদের দেশের এমন কোন পীর নাই যে বা যারা মানসুর হাল্লাজকে অলি হিসেবে মানেনাতাই এদের বেপারে সাবধান হউন

০৯. উপসংহারঃ
পরিশেষে আমাদের সকলের আবশ্যকীয়ভাবে উপরোল্লেখিত পীর-মুরিদীর সংশ্রব পরিহার করে চলতে হবে এবং গণসচেতনতামূলক কর্ম-কান্ডে সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে উপরোল্লেখিত বিষয়াবলীর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন।

-----------------------------------------------------
* আরবি প্রভাষক. ধীপুর ইসলামী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসা, মুন্সীগঞ্জ

* উপাধ্যক্ষ, ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট, কাজী বাড়ি, উত্তরখান, ঢাকা। 
  পরিচালক, আমিরুন্নিসা হুসাইন আলী ব্লগস্পট.কম

No comments:

Post a Comment