Wednesday, 28 August 2019

أهمية اللغة العربية في فهم الإسلام

بسم الله الرحمن الرحيم
أهمية اللغة العربية في فهم الإسلام
الإعداد والجمع : عبد السلام حسين علي

 اللغة هي الوسيلة الأولى للتخاطب بين الناس.
 وهي أهمّ أداةٍ من أدوات التفكير.
 وهي وعاء العلم والمعرفة، تحفظُها الكتابةُ من الضياع.

هذه الأمور الثلاثة تكاد - لوضوحها - تكون من البدهيات، ولكن الناسَ - في حياتهم العملية - لم يعطوا هذه (البدهيات) ما تستحقُّه من الاهتمام! ومع أنها مشتركة بين اللغة العربية وسواها، إلا أن العربية تتميز عن غيرها بأنها لغة الدين الإسلامي، فالقرآن الكريم نزل باللغة العربية؛ قال تعالى﴿إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآَنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ  [يوسف: 2].

وقال: ﴿ كِتَابٌ فُصِّلَتْ آَيَاتُهُ، قُرْآَنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [فصلت: 3].

والرسول - صلى الله عليه وسلمخاطب قومه العرب بلسانهم؛ قال تعالى: ﴿ وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ... [إبراهيم: 4].

وهكذا فإن الأساسين الأَوَّلين لهذا الدين - القرآنَ والسنةَ - هما باللغة العربية، ولا يمكن فهمُهما، ومعرفةُ أسرارِهما، واستنباطُ الأحكام منهما لغير المتمكّن من هذه اللغة المباركة.

وقد أدرك الأئمةُ الأقدمون أهميةَ اللغة العربية في فهم كلام الله - سبحانه وتعالى - وكلامِ رسوله - صلى الله عليه وسلمفهذا الإمام الشافعي - رحمه الله - يقول عنه زوجُ ابنته: "أقام الشافعي علمَ العربية وأيامَ الناس عشرين سنة، فقلنا له في هذا، فقال: ما أردت بهذا إلا استعانةً للفقه"[1]؛ أي: ظلّ عشرين سنة يتبحّر في اللغة العربية وعلومها ليفقه ويفهمَ القرآن والسنة، ولا يستغرب منه هذا، فهو الذي يقول: "أصحاب ُالعربية جِنُّ الإنس، يُبصرون ما لم يبصرْ غيرُهم"[2].

وكان علماء الدين يقولون: "من تكلّم في الفقه بغير لغةٍ تكلم بلسان قصير"! والمقام لا يتسع للتفصيل، وفيما ذُكر كفاية لإثبات المراد.

واللغة العربية بحر لا ساحل له، بعضُ علومها: النحو، والصرف، وعلم المعاني، وعلم البيان، وعلم البديع... إلخ، وكانت في الجيل الأول، جيل الصحابة - رضي الله عنهم - ملكةً وسليقة، ثم لما انتشر الإسلام في شتَّى البلاد، واختلط العرب بالمسلمين الجدد بالمصاهرة والمعاملة، والتجارة والتعليم، دخلت في لسانهم العجمةُ وبدأ الخطأ في الكلام، (فخفضوا المرفوعَ، ورفعوا المنصوب، وما إلى ذلك).

وقد بدأ هذا اللحن في وقتٍ مبكر جدًّا، إذ يُروى أن الخليفة الراشد عليًّا - رضي الله عنه - هو الذي وجَّه أبا الأسود الدؤلي إلى أن يضع أصولَ علم النحو حفظًا على اللغة العربية من الضياع[3]، فكيف الحال في زماننا، بعد مضي أكثر من أربعة عشر قرنًا؟!

ومن العلوم المهمة جدًّا في فَهم كلام الله - سبحانه - وكلام رسوله - عليه الصلاة والسلام - بعد علوم العربية: علم أصول الفقه الذي يُحدِّد قواعد استنباط الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية في القرآن والسنة[4]، وهو أيضًا بحر لا ساحل له، وقد كُتِبَ باللغة العربية ونَقْلُهُ إلى لغة أخرى يُخِلُّ بالكثير من مقاصده، وهو إحدى الأدوات المهمة لمن يريد الاجتهاد في الدين.

وغني عن البيان أننا عندما نتكلم عن اللغة العربية، فإننا نعني: اللغة الفصحى، لا اللهجاتِ المحلية العامية التي ابتعدتْ عن أصلها، وتباينت فيما بينها تباينًا كبيرًا، جعل العربي المشرقي لا يكاد يفهم شيئًا مِن عامية العربي المغربي، وبالعكس!!

نخلص مما تقدم إلى نتائجَ من أهمها:
أولًا: العربية الفصحى هي وعاء الإسلام، ومستودع ثقافته، ومادة أكثر ما كُتب عنه على مدى القرون.

ثانيًايجب على المسلم الذي لا يعرف العربية أن يقفَ عند حدود علمه، فلا يجاوز تلك الحدودَ عند الحديث عن الإسلام.

ثالثًا: وكذلك المسلم الذي يعرف العربية مؤهل - أيضًا - للفهم في حدود معرفته، أما الاجتهاد، والحكم على أقوال الأئمة بالصواب والخطأ، والقوة والضعف فله أهلُه، وهو مقصورٌ على من يملكُ أدواتِه.

رابعًاالذي لا يعرف قواعدَ البيان العربي، ومقاصدَ خطاب العرب يقع في أخطاءٍ في الفهم، ويستنبط من القرآن والسنة معانيَ بعيدةً عن مقاصد الشرع.

خامسًا: لا بدّ كذلك من معرفة عادات العرب أيام نزول الوحي؛ لأن القرآن نزل مراعيًا عُرْفَهم في الخطاب[5].

سادسًاينبغي بذل الجهد في نشر العربية بين المسلمين الذين لا يعرفونها، وتقويتُها بين الذين يعرفونها، فهذا مِنْ خير ما يُعينهم على فهمٍ أفضلَ للقرآن والسنة والعلوم الإسلامية.



[1] الفقيه والمتفقه؛ الخطيب البغدادي: 2/41.
[2] آداب الشافعي ومناقبه؛ الرازي: 150.
[3] انظر: القواعد الأساسية للغة العربية؛ السيد أحمد الهاشمي: 13، 14.
[4] انظر: أصول الفقه؛ محمد زكريا البرديسي، 21 وما بعدها.
[5] انظر: ضوابط في فهم النص؛ د. عبدالكريم حامدي: 118، وفيه نقل عن كتاب: الموافقات في أصول الشريعة؛ للإمام الشاطبي.

Sunday, 11 August 2019

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিধান ও ইসলামী গবেষকদের ফাতুওয়া


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
أحكام تبادل التحية والتهنئة للعيد والفتوي للباحثين الإسلامية
Eid greetings exchanged and Islamic researchers fatwa
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিধান ও ইসলামী গবেষকদের ফাতুওয়া
সংকলনে : আব্দুস সালাম হুসাইন আলী

আলোচ্যসূচী :-
১. অবতরণিকা :
২. ঈদের সংজ্ঞা ও পরিচিতি :
৩. দলিল-প্রমাণ নিম্নরূপ :
৪. ইসলামী গবেষকদের ফাতুওয়া :
৫. উপসংহার :

১. অবতরণিকা :
ঈদ শব্দটির অর্থ : উৎসবইসলাম ধর্মের মতানুসারে প্রধান ধর্মীয় উৎসব গুলোকে ঈদ বলা হয়অর্থাৎ ইসলাম ধর্মানুযায়ী ঈদের ধর্মীয় সংজ্ঞা হলো : পবিত্র রমজানে এক মাস সাওম বা সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের এক তারিখে খুশী বা আনন্দ উদযাপনকে ঈদ বলা হয়

পক্ষান্তরে ঈদ মুবারক (আরবী : عيد مبارك‎‎) হল মুসলিমদের একটি ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্যঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ বা উদযাপনআর মুবারক শব্দের অর্থ কল্যাণময়সুতরাং ঈদ মুবারকের অর্থ হল ঈদ বা আনন্দ উদযাপন কল্যাণময় হোক

কিছু রাষ্ট্রে এই শুভেচ্ছা বিনিময় একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কোন ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার অংশ নয়অর্থাৎ ঈদের দিন একে অপরকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা এবং কোন ভাল শব্দ বা দুআমূলক বাক্য দ্বারা পরস্পরকে সম্ভাষণ জানানোর নামই হল ঈদের মুবারকবাদ

সুতরাং বলা যায় যে, ঈদের দিন একে অপরকে মুবারকবাদ দেওয়ায় ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপনে কোন দোষ নেইযেমন : তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম (আল্লাহ্ আমাদের ও তোমাদের নিকট থেকে এই ইবাদত কবুল করুন), ঈদ মুবারক (আমাদের ঈদ বরকতময় হোক) ইত্যাদি দুআমূলক বাক্য বলে এক অপরের সাথে সাক্ষাৎ করা বৈধ তবে সর্বোত্তম হলো হাদীস দ্বারা প্রমাণিত শব্দ ব্যবহার করা।

২. ঈদের সংজ্ঞা ও পরিচিতি :
১. ঈদের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে আরবী অভিধানের অন্যতম কিতাব আল মুজামুল ওয়াসীতএর ৬৩৫ পৃষ্ঠায় আছে- ঈদ বলা হয় কোন দুশ্চিন্তা বা কোন রোগ অথবা কোন আকাংখ্যা বা এ ধরণের অন্যান্য বিষয় যা বারবার ফিরে আসে এবং এমন প্রত্যেক দিনকে ঈদের দিন বলা হয় যে দিন কোন সম্মানীত বা প্রিয়তম ব্যক্তির স্মরণে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়

২. ঈদের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে মিসবাহুল লুগাতএর ৫৮৩ পৃষ্টায় লিখা আছে - ঈদ এমন প্রত্যকে দিনকে বলা হয় যে দিন কোন সম্মানীত মহান ব্যক্তির অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ বড় ঘটনার স্মরণে কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়ঈদকে এ জন্য বলা হয় কারণ তা প্রত্যেক বছর ফিরে আসে

৩. ফিরজুল লুগাতএর ১২৭ পৃষ্ঠায় বলা আছে - ঈদ হল মুসলমানদের আনন্দের দিন, খুশির কোন অনুষ্ঠান ও খুবই আনন্দিত হওয়া

উপরে বর্ণিত অভিধান সমূহে ঈদের সংজ্ঞার আলোকে সংক্ষেপে বলা যায়, ঈদ হল কোন সম্মানীত প্রিয়তম ব্যক্তির অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ মহান ঘটনার স্মরণে অনুষ্ঠিত মাহফিল যা প্রতি বছরই নতুন নতুন আনন্দ নিয়ে আমাদের নিকট ফিরে আসে

যেহেতু ঈদে ও অন্যান্য খুশীতে মুবারকবাদ দেওয়া, বরকত, মঙ্গল ও ক্ববূলের দুআ করা ইসলামে সুস্পষ্টভাবে স্বীকৃতযেমন - রাসূল এর সাহাবাগণ ঈদগাহ হতে ফিরার সময় এক অপরকে বলতেন, তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা (আল্লাহ্ আমাদের ও তোমার পক্ষ থেকে এই ইবাদত ক্ববূল করুন)তবে বিষয়টি সরাসরি রাসূল থেকে প্রমাণিত নয়

৩. দলিল-প্রমাণ নিম্নরূপ :
. তাবিঈ জুবাইর ইবনু নুফাইর হতে বর্ণিততিনি বলেন :
ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﺫَﺍ ﺍِﻟْﺘَﻘَﻮْﺍ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻌِﻴﺪِ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ : ﺗَﻘَﺒَّﻞَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨَّﺎ ﻭَﻣِﻨْﻚ
আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাহাবীগণ ঈদের দিন একে অন্যের সাথে সাক্ষাৎ হলে বলতেন : তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা (আল্লাহ্ আমাদের ও তোমার পক্ষ থেকে এই ইবাদত কবুল করুন)” [ইবনু হাজার , ফাতহুল বারী; ২/৫১৭,  আলবানী , তামামুল মিন্নাহ্ ফিত তালীক্বি আলা ফিক্বহিস সুন্নাহ্; পৃষ্ঠা: ৩৫৪-৩৫৫; দারুর রায়াহ্ ছাপা; সন: ১৪০৮ হিজরী (২য় প্রকাশ); সনদ: স্বহীহ্ (তাহ্ক্বীক্ব : আলবানী)/হাসান (তাহ্ক্বীক্ব : ইবনু হাজার)]

সুতরাং, আলোচনায় বলা যায় যে, ঈদে মুবারকবাদ জানানো কোনো ইবাদত নয় : ঈদে একে অপরকে মুবারকবাদ জানানো এবং পরস্পরকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা কোন ইবাদতমূলক বিষয় নয়এটা দেশীয় বা আঞ্চলিক আচার ও প্রথার অন্তর্গত একটি বিষয়এটা সামাজিক শিষ্টাচার ও লোকজ প্রথা হিসেবেই গণ্য হয়ে থাকে

৪. ইসলামী গবেষকদের ফাতুওয়া :
ক. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ্ [মৃত: ৭২৮ হি.] (রাহি.)-এর ফাতুওয়া :
السؤال : ”ﻫَﻞْ ﺍﻟﺘَّﻬْﻨِﺌَﺔُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻌِﻴﺪِ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺠْﺮِﻱ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻟْﺴِﻨَﺔِ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ : ” ﻋِﻴﺪُﻙ ﻣُﺒَﺎﺭَﻙٌ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺷْﺒَﻬَﻪُ , ﻫَﻞْ ﻟَﻪُ ﺃَﺻْﻞٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸَّﺮِﻳﻌَﺔِ ﺃَﻡْ ﻻ ؟ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﺃَﺻْﻞٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸَّﺮِﻳﻌَﺔِ , ﻓَﻤَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﻘَﺎﻝُ ؟
الجواب : ”ﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟﺘَّﻬْﻨِﺌَﺔُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻌِﻴﺪِ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ ﺇﺫَﺍ ﻟَﻘِﻴَﻪُ ﺑَﻌْﺪَ ﺻَﻼﺓِ ﺍﻟْﻌِﻴﺪِ : ﺗَﻘَﺒَّﻞَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨَّﺎ ﻭَﻣِﻨْﻜُﻢْ , ﻭَﺃَﺣَﺎﻟَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚ , ﻭَﻧَﺤْﻮُ ﺫَﻟِﻚَ , ﻓَﻬَﺬَﺍ ﻗَﺪْ ﺭُﻭِﻱَ ﻋَﻦْ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔٍ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔِ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻔْﻌَﻠُﻮﻧَﻪُ ﻭَﺭَﺧَّﺺَ ﻓِﻴﻪِ , ﺍﻷَﺋِﻤَّﺔُ , ﻛَﺄَﺣْﻤَﺪَ ﻭَﻏَﻴْﺮِﻩِ . ﻟَﻜِﻦْ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺣْﻤَﺪُ : ﺃَﻧَﺎ ﻻ ﺃَﺑْﺘَﺪِﺉُ ﺃَﺣَﺪًﺍ , ﻓَﺈِﻥْ ﺍﺑْﺘَﺪَﺃَﻧِﻲ ﺃَﺣَﺪٌ ﺃَﺟَﺒْﺘﻪ , ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﻷَﻥَّ ﺟَﻮَﺍﺏَ ﺍﻟﺘَّﺤِﻴَّﺔِ ﻭَﺍﺟِﺐٌ , ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻻﺑْﺘِﺪَﺍﺀُ ﺑِﺎﻟﺘَّﻬْﻨِﺌَﺔِ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﺳُﻨَّﺔً ﻣَﺄْﻣُﻮﺭًﺍ ﺑِﻬَﺎ , ﻭَﻻ ﻫُﻮَ ﺃَﻳْﻀًﺎ ﻣَﺎ ﻧُﻬِﻲَ ﻋَﻨْﻪُ , ﻓَﻤَﻦْ ﻓَﻌَﻠَﻪُ ﻓَﻠَﻪُ ﻗُﺪْﻭَﺓٌ , ﻭَﻣَﻦْ ﺗَﺮَﻛَﻪُ ﻓَﻠَﻪُ ﻗُﺪْﻭَﺓٌ . ﻭَﺍَﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ .
প্রশ্ন : ঈদের মধ্যে মুবারকবাদ জানানো এবং লোকমুখে প্রচলিত (সম্ভাষণ) ঈদুকুম মুবারাক (তোমাদের ঈদ বরকতময় হোক) ও অনুরূপ সম্ভাষণসমূহের ভিত্তি কি শারীআহ্য় আছে নাকি নেই? আর শারীআহ্য় যদি এর কোন ভিত্তি থাকে তবে (মুবারকবাদ জানাতে) কী বলা হবে?”
উত্তর : ঈদের দিন মুবারকবাদ জানানোর জন্য ঈদের সালাতের পর লোকেরা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে বলবে তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম (আল্লাহ্ আমাদের এবং তোমাদের পক্ষ থেকে এই ইবাদত কবুল করুন) এবং আহালাহুল্লাহু আলাইকা (আরো ঈদ দেখার জন্য আল্লাহ্ তোমাকে বাঁচিয়ে রাখুন) এবং অনুরূপ ভাল সম্ভাষণএটা একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা এরূপ করতেন এবং ইমামগণ এটা অনুমোদনও করেছে; যেমন : ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামগণকিন্তু ইমাম আহমাদ ইবনু হাজার বলেছেন, আমি প্রথমে কাউকে এই সম্ভাষণ জানাব নাকিন্তু কেউ যদি আমাকে এই মুবারকবাদ বা সম্ভাষণ জানায়, তবে আমি তার জবাব দিবএটা এ কারণে যে, অভিবাদনের জবাব দেওয়া ওয়াজিবকিন্তু প্রথমেই কাউকে মুবারকবাদ জানানো সুন্নাহ্ নয়, যে সুন্নাহর ব্যাপারে আদেশ করা হয়েছেআর এটা নিষিদ্ধ বিষয়ও নয়সুতরাং যে এটা করে, তারও দৃষ্টান্ত আছে; আর যে এটা পরিত্যাগ করে তারও দৃষ্টান্ত আছে[ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ্ - মাজমূউ ফাতাওয়া; ২৪/২৫৩]

খ. আল্লামা আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল তাহতাওয়ি হানাফি বলেন : ঈদ শুভেচ্ছায় সিরিয়া, মিসর প্রভৃতি দেশের লোকেরা ঈদ মোবারক আলাইকএ জাতীয় বাক্য বলতে অভ্যস্তসাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত বাক্যের সঙ্গে এর মর্মগত মিল রয়েছেফলে সেটার মতো এটা বলাও জায়েজ ও ভালোকথা এমন মন্তব্য করার সুযোগ আছে[হাশিয়াতুত তাহতাওয়ি আলা মারাকিল ফালাহ শারহ নুরুল ঈযাহ, পৃ : ৫৩০]

গ. মুহাদ্দিস ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন : ঈদের দিন কারও সঙ্গে দেখা হলে মুহাদ্দিস মাকহুল সম্ভাষণ জানাতেন ইসফ্লিতাবলেইয়াহইয়া বলেন, ‘ইসফ্লিতাঅর্থ আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন[muqbel.net/fatwa.php?fatwa_id=3320]

৫. উপসংহার :
সর্বপরি বলা যায় যে, ঈদের দিন মুআনাকা করার খাস কোন দলীল নেইতবে সুন্নাত মনে না করে যদি কেউ মুআনাকা করে তাতে কোন অসুবিধা নেইসাহাবীগণ পরস্পর সাক্ষাৎ করলে মুসাফাহা করতেন এবং সফর থেকে ফিরে আসলে মুআনাকা করতেন[সিলসিলা, সহীহাহ, হা : ২৬৪৭]

Tuesday, 30 July 2019

জায়গা-জমি বন্ধক ও লীজ দেওয়া-নেওয়ার শর‘য়ী বিধান


জায়গা-জমি বন্ধক ও লীজ দেওয়া-নেওয়ার শর‘য়ী বিধান
সংগ্রহে : আব্দুস সালাম হুসাইন আলী


১. জায়গা-জমি ও আসবাব পত্রের লীজ দেওয়া-নেওয়ার শর‘য়ী বিধান :
দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিক্রমে কেবল জমি ও পুকুর লীজ দেওয়া যাবেহানযালা বিন ক্বায়েস (রাঃ) বলেন, আমি রাফেবিন খাদীজ (রাঃ)-কে দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে জমি লীজ দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এতে কোন দোষ নেই (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৯৭৪)আর গাছ সমূহের আম মুযারাবাঅংশীদারী চুক্তিতে পৃথকভাবে বর্গা দিতে হবে (আবুদাঊদ হা/৪৮৩৬; সনদ ছহীহ)

২. জায়গা-জমি বন্ধক দেওয়া-নেওয়ার শর‘য়ী বিধান :
জায়গা-জমি বন্ধক দেওয়া-নেওয়া এক ধরনের কর্যআর কর্যের মাধ্যমে লাভ গ্রহণ করা সূদছাহাবীগণ এমন কর্য নিষেধ করতেন যে কর্য লাভ আনয়ন করে (বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল হা/১৩৯৭)

৩. বর্তমানে জমি বন্ধক নেওয়া হচ্ছে এভাবে- দশ বা ত্রিশ হাযার টাকা কেউ অন্যের নিকট থেকে নিচ্ছে এক বিঘা বা দুই বিঘা জমি তাকে দিচ্ছেঐ টাকা যতদিন ফেরত না দিবে ততদিন সে জমি ভোগ করতে থাকবেউক্ত পদ্ধতি কি শরীআত সম্মত ?

উত্তর : উক্ত পদ্ধতি শরীআত সম্মত নয়কারণ ঋণের বিনিময়ে মুনাফা অর্জন করা সূদের অন্তর্ভুক্তযদিও সেটা উভয়ের সম্মতিক্রমে হয়সেখান থেকে কিছু টাকা ছেড়ে দিলে হালালহবে বলে যে কথা সমাজে চালু আছে সেটিও হীলা বা অপকৌশল মাত্রকেবলমাত্র টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তার স্বার্থে কোনরূপ লাভ না নিয়ে জমি বন্ধক নেয়া শরীআত সম্মত (দ্রঃ ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/১৯৬; বুখারী, মিশকাত হা/২৮৩৩ সূদঅনুচ্ছেদ)

জমি তার মালিকের ব্যবহারে থাকবে, যাতে সে তার উৎপন্ন ফসলের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পায়পক্ষান্তরে জমিটি ঋণদাতার নামে বন্ধকী রেজিষ্ট্রি থাকবে, যাতে তার ঋণের টাকা মার না যায়ঋণ দেওয়ার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকতে হবে, দুনিয়াবী লাভের নিয়ত রাখা যাবে নাআল্লাহ বলেন, ‘কে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করবে? তিনি তাকে দ্বিগুণ ও বহু গুণ প্রতিদান প্রদান করবেনআল্লাহ রূযী সংকুচিত ও বর্ধিত করে থাকেনআর তাঁর নিকটেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে’ (বাক্বারাহ ২/২৪৫)

৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, সওয়ারীর পশু বন্ধক রাখলে তার পিঠে আরোহণ করা যাবেদুগ্ধবতী পশু রাখলে তার দুধ খাওয়া যাবেকিন্তু যে বন্ধক নিবে সে খরচ বহন করবে (তিরমিযী হা/১১৯১)হাদীছটি কি ছহীহ? যদি তাই হয়, তাহলে জমির ক্ষেত্রেও কি তাই হবে?


উত্তর : বন্ধক এবং ঋণের হুকুম একইঋণের বিপরীতে লাভ নেওয়া যেমন সূদ, ঠিক তেমনি বন্ধক নেওয়া জিনিস থেকেও কোনরূপ লাভ গ্রহণ করা সূদের অন্তর্ভুক্তবন্ধক মূলত ঋণের বিপরীতে যামানত স্বরূপসেটার সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঋণগ্রহীতার উপরশর্তানুযায়ী তার ঋণ পরিশোধ করলে তাকে তার বন্ধকী বস্ত্ত ফেরত দিবেআর ঋণ পরিশোধে অসম্মতি জানালে তার ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী সে তা থেকে উসুল করে নিবেতবে বন্ধকী বস্ত্ত যদি পশু হয়, সে ক্ষেত্রে রাসূল (ছাঃ) বলেন, বন্ধক নেওয়া পশুর উপর সওয়ার হতে পারবে, তার খরচ অনুপাতে এবং তার দুধও পান করতে পারবে তার খরচ অনুপাতে (বুখারী হা/২৩৭৭, মিশকাত হা/২৮৮৬)

উল্লে­খ্য যে, একমাত্র পশুর ক্ষেত্রে উপকার গ্রহণ করার অনুমতি পাওয়া যায়যেহেতু পশুর জীবন রক্ষার জন্য তার দেখাশুনা করা অপরিহার্য, সেহেতু তার উপর ব্যয়কৃত অর্থ অনুপাতে সে তা থেকে উপকার গ্রহণ করতে পারবেকিন্তু জমির ক্ষেত্রে তা জায়েয নয় (সুবুলুস সালাম হা/৮০৯-এর ব্যাখ্যা, ৩/১০২ পৃঃ)

উল্লেখ্য যে, বন্ধকী জমির ফসল ভোগ করা অনুরূপ সূদ, যেমনভাবে কাউকে ১০০ টাকা ঋণ দিয়ে ১১০ টাকা নেওয়া সূদকেননা ঋণের বিনিময়ে যদি কোন লাভ নেওয়া হয়, তবে সেটাই সূদবন্ধক রাখা হয় কেবলমাত্র ঋণের টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তার স্বার্থে, বাড়তি লাভের জন্য নয়আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্কে উত্তম ঋণ দেয়, আল্লাহ তাকে বহুগুণ বেশী দান করে থাকেনআল্লাহ রূযির কম-বেশী করে থাকেন এবং তার কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে’ (বাক্বারাহ ২/২৪৫)