بسم الله الرحمن الرحيم
জান্নাত ও জান্নাতীদের গুণাবলীঃ
আব্দুস সালাম হুসাইন
আলী
০১. সংজ্ঞা ও পরিচিতিঃ
শাব্দিক অর্থ : الجنة (জান্নাত) শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ হলো : বাগান, উদ্যান।
০২. الجنة (জান্নাত)-এর পরিচয়ঃ
الجنة (জান্নাত) : যার রূপ কোন
মানব চক্ষু কখনো দেখেনি, যার
বিবরণ কোন মানব কর্ণ শ্রবণ করেনি, আর কোন মানবের অন্তরেও কখনো কল্পনার সূত্রপাত ঘটেনি।
০৩. الجنة (জান্নাত)-এর বর্ণনা ও বৈশিষ্ট্য :
الجنة (জান্নাত) হলো : কোলাহলমুক্ত, নিরিবিলি, স্বাস্থ্যসম্মত, মনোরম ও এ.সি
সমৃদ্ধ, দুর্ভেদ্ধ
নিরাপত্তায় বেষ্ঠিত হুর-গিলমান কর্তৃক সু-সূভিত বিভিন্ন কালারের আলোক রশ্মি, সারিবদ্ধ
বৃক্ষরাজি, দৃষ্টি
নন্দন ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী কারুকার্য খচিত, সু-নিপূন ও নিখুঁত শৈল্পিক সমারোহ, হৃদয় মাতানো
মন-প্রাণ জাগানো চির শান্তির আবাসস্থল ও কেন্দ্রভূমি।
রূপকথার রাজ-রাণীর কথিত গল্পের ধাধার সর্বউর্ধ্বে, সমস্ত মানব
চাহিদা পূরণেন এক মহাসম্ভার। যার সেবিকা হবে; মন মাতানো, মহাসুন্দরী রূপসী, বুদ্ধিমত্তার
হুর-গিলমান। যারা সর্বদা সুবাস বহনকারী, পুরুষমুগ্ধকারী, সু-সজ্জিত
শুধুমাত্র মুত্তকীদের জন্যই। ভাষার মাধুর্যতা ও মার্জিত আচরণে
জান্নাতীগণ হবেন মুগ্ধ। জান্নাত লাভের আশা-আকাঙ্খায় মানুষ হবে ব্যাকুল।
তবে হ্যাঁ, শুধুমাত্র আবেগ-আপ্লোত হলে চলবে না; জানতে হবে, মানতে হবে, শর্ত অর্জন করতে
হবে, তাহলেই
পাওয়া যাবে বহু প্রতিক্ষীত ও আকঙ্খীত স্বপ্নের জান্নাত।
০৪. কাদের জন্য এ জান্নাত? তথা জান্নাতীদের গুণাবলী কী হবে?
ক. এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র
কুরআনে এরশাদ করেন :
﴿وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ﴾
And race
towards forgiveness from your Lord, and a Garden as wide as the heavens and the
earth, prepared for the righteous.
‘তোমরা স্বীয় রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রসারতা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সদৃশ, ওটা ধর্মভীরুদের জন্য নির্মিত
হয়েছে’। [সূরা আল-ইমরান : ১৩৩]।
খ. মুত্তকীর পরিচয় :
المتقون : المؤمنون، المؤمنون بالتوحيد الإسلامي الذين يخشون الله كثيرا (الإمتناع عن جميع أنواع الخطايا والأفعال الشريرة التي حرم) وحب الله كثيرا (أداء جميع أنواع الأعمال الصالحة التي قام بها)
Al-Muttaqun : the pious believers of Islamic Monotheism who
fear Allah much (abstain from all kinds of sins and evil deeds which He has
forbidden) and love Allah much (perform all kinds of good deeds which He has
ordained).
আল-মুত্তাকুন
: ইসলামী একত্ববাদরে পবত্রি ঈমানদারগণ, যারা আল্লাহকে ভয় করে (তিনি সব ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকেন
এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকে) এবং আল্লাহকে অনেক বেশি ভালোবাসা (যা
তিনি নির্ধারিত করেছেন সব রকমের ভাল কাজ)।
০৬. أوصاف
أصحاب الجنة জান্নাতীদের
গুণাবলীঃ
ক. অ-সচ্চল ও সচ্চল উভয় অবস্থাতেই
আল্লাহর রাস্তায় দান করা।
খ. রাগ-ক্রোধ সংবরণ করা।
গ. মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করা।
ঘ. অন্যায়-অশ্লীল, খারাপ ও গোনাহ
পরিহার করা এবং জুলুম-অত্যাচারে আল্লাহকে স্মরণ করা।
ঙ. কবীরা
তথা বড় গোনাহ বর্জন করা।
➤ الكبائر কবীরা তথা বড়
গোনাহ সমূহঃ
⇨ অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা।
⇨ পিতা-মাতার
অবাধ্য হওয়া।
⇨ সূদ ও ঘোষ
ভক্ষণ করা।
⇨ ইয়াতীমের
সম্পদ ভক্ষণ করা।
⇨ চুরি, ডাকাতী, ছিনতাই ও
সন্ত্রাসী করা।
⇨ রণ
ক্ষেত্র থেকে পালায়ন করা।
⇨ নিজের
আত্মার উপর যিনা-ব্যাভিচার ও গোনাহ দ্বারা জুলুম-অত্যাচার করা।
চ. পরিপূর্ণ
মু’মিন
হওয়া।
ছ. আল্লাহর ভয়ে বিণয় ও নম্রতার সাথে
সালাত আদায় করা।
জ. অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করে
সর্বদা যিকিরে অভ্যস্থ হওয়া।
ঝ. আল্লাহ এবং বান্দার আমানত রক্ষা
করা।
ঞ. জিহ্বা ও যৌনাঙ্গের হেফাজত করা।
ট. জেনে-শোনে বার বার অন্যায়-অশ্লীল, খারাপ ও
গোনাহের কাজ না করা।
ঠ. ওয়াদা-অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি
রক্ষা করা ;
⃟ আল্লাহর সাথে বান্দার ওয়াদা-অঙ্গীকার।
⃟ বান্দার সাথে বান্দার ওয়াদা-অঙ্গীকার।
ড. সালাত
আদায়ে যত্নকান হওয়া।
ঢ. রাসূল (সা)-এর পূর্ণ আনুগত্য করা।
০৭.
উপসংহার :
হে
আল্লাহ আপনি আমাদের উপরল্লেখিত বহুগুণে বিশেষিত জান্নাত নসীব করুন এবং জান্নাতীদের গুণাবলী অর্জনের জন্য
‘আমলে সালিহা করার তাওফীক দান করুন, আমীন।

কিঠিন সাহিত্যপূর্ণ মুক্তাঝড়া আলোচনা। দীর্গজীজবী হউন হে নবীন কলম সৈনিক। দু’আ করি দু’আ চাই।
ReplyDeleteExcellent & Beautiful.
ReplyDelete