Saturday, 4 November 2017

মন চায় বুকফাটিয়ে কান্না করি কিন্তু কেন?

মন চায় বুকফাটিয়ে কান্না করি কিন্তু কেন?
আবু মাহফুজ আব্দুস সালাম
আত্মসমালোচনা, আত্মপর‌যালোচনা, আর্তচিৎকার: মুসলিম জাতি যুগেযুগে নির্যাতিত-নিপীড়িত, নিষ্পেষিত, পদদলীত, অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, নিগৃহিত, নির্বাসিত, ধর্মীয় কালচার পালনে বাধাপ্রাপ্ত :

মুসলিম জাতীর বীরত্বগাথা স্বর্ণালী ও সোনালী যুগের গোধূলীর আলো-আভা : মহান আল্লাহ তা’আলা মুসলিম বিশ্বের ভূগর্ভে স্বর্ণ-হিরক, লৌহদাতব্য, ইস্পাত, ডিজেল-পেট্রোল, অকটেন, দাহ্যপদার্থ, মনি-মুক্তাসহ অসংখ্য রত্নসম্পদ গচ্ছিত করে রেখেছেন। যার পরিমাণ প্রায় 65%।সমগ্র বিশ্বের সকল মানবীয় চাহিদার সিংহ ভাগই সরবরাহ করা হয় মুসলিম রাষ্ট্রগুলো থেকে। মুসলিম জাতী হলো সৃষ্টির সেরা। সর্গবাসে যারা হবে ধন্য (শর্ত প্রযোজ্য)।যাদের সরাসরি সাহায্য-সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন মহান আল্লাহ তা’আলা নিজেই। যুগেযুগে প্রেরিত সকল নবী-রাসূলগণ মানবসম্প্রদায়কে সহজ-সরল, সঠিক, নিরেট-নির্ভেজাল পথে পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রেখছেন। যে জাতি নিজে না খেয়ে অপরকে খাইয়ে তৃপ্তি পেয়ে থাকে। যে জাতি নিজের কুড়েঘর অন্ধকারে রেখে অপরের গৃহ আলোকিত করে থাকে। যে জাতির সম্পমান ফেরেশতাদের চেয়ে উত্তম। যাদের সম্মান, সার্বিক নিরাপত্তা ও সাহায্যার্থে মহান প্রভূ নিজ করুনায় আকাশ হতে ফেরেশতা প্রেরণ করে বদর প্রান্তরে সহযোগিতা করেছিলেন। যাদের পদচুম্বনে সমগ্র বিশ্বের অধিকাংশ ভূমি ইসলামী রাষ্ট্রের পতাকাতলে বিজীত হয়েছিল। 

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অদম্য দূর্জয়-দিকবিজয়ী সেনানায়ক, সুনীপন দক্ষ্য-অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ-সংসার, দেশ ও জাতী উপভোগ করেছিল, ঈর্ষণীয় সাফল্য। যে জাতী সকল উন্নয়নের বহুরূপী তরী ভাসিয়েছিল ভূস্বর্গে। যারা ছিল স্বর্ণমানব। যাদের হুঙ্কারে পারস্য পরাশক্তি থাকত রিতীমত থম্পমান। যাদের সিংহ গর্জনে প্রকম্পতি হত কুফ্ফারদের পায়ের নিচের মৃত্তিকা। মুসলিম জাতীর পদাঘাতে নিঃশেষ হত সকল অন্যায়, অবিচার-অনাচার, দুরাচার, দূর্নীতি ও অত্যাচার।

মুসলিম জাতীর ভাগ্যকাশের উত্তর গগণে অমানিশা, অমাবশ্যার ঘুটঘুটে, গাঢ়, কালো অন্ধকারের হাতছানি। সংকীর্ণ ও কঙ্কটাকীর্ণ গিরীপথের পিচ্চিল আহ্বান। খাদ্য-পাণীয়, জনমানবহীন কীট-পতঙ্গের পঙ্গপালের ন্যায় ছিন্নবিন্ন মানবেতর জীবন-যাপনের আলিঙ্গন। মনের কোনে ঝড়ের পূর্বাভাশ। কিন্ত হায় আফসোস! আজ কেন মুসলিম জাতি নির্যাতিত-নিপীড়িত? কেন মুসলিম জাতি নিষ্পেষিত, অবহেলিত ও পদদলীত? কেন মুসলিম জাতি অধিকারবঞ্চিত, নিগৃহিত, নির্বাসিত? কেন মুসলিম মা-বোনেরা ধর্ষীত? ধর্মীয় কালচার পালনে বাধাপ্রাপ্ত? কেন তারা ….? এহেন ক্রান্তিলগ্নে ভারাক্রান্ত অন্তরে অবুঝ শিশুর মত ডুকরে ক্রন্দন করা এবং অুবুঝ ও অশান্ত মনকে শান্তনার মিথ্যা বাহনার নিমিত্তে বলতে চাই, বিশ্বের এসব ন্যাড়া-খুড়া, সাদা চামড়ার কুকুর, মুসলিম জাতির রক্তচোষনকারী চরম ও উগ্রপন্থী কুফ্ফারদের দমানোর সাহস কি মুসলিম জাতির নেই?


জানি এটা নিছক মনের কোনে বিড়বিড় করে আওরানো বৈ কিছুই নেই তথাপিও প্রশান্তির জন্য এই হীনচেষ্টা মাত্র। যেমনটি করে পৃথিবীর সকল পক্ষীকোল কি কখনো আকাশের উড়ার আগে ভাবে যে, কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্র আঘাতে লন্ডবন্ড হয়ে যাবে তার চিরদিনের মাথাগুজার সামন্য স্থানটুকু? না, ভাবে না। তথাপিও সে আকাশে উড়া যেমন ছাড়ে না তেমনি মানবসম্প্রদায়ও ভাবেনা কখন কিভাবে তার করুন পরিণতি কি হবে? তবুও মানুষ অসংখ্য কাজের ইশতিহার নিয়ে চলতে হয়। অনুরূপভাবে মাতৃকোলের অবুঝ শিশুকে দূর আকাশের চাঁদ মামা এনে দেওয়ার নিছক আশ্বাস দেওয়ার মতই কিছুটা।

No comments:

Post a Comment