Saturday, 4 November 2017

মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বাধ্যবাদকতা, তাৎপর্য ও উপকারিতাঃ

أحكام الرضاعة فى الإسلام بضوءالقرآن والسنة وفوائدها
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এবং মেডিকেল সাইন্সে স্তন্যদান, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বাধ্যবাদকতা, তাৎপর্য ও উপকারিতাঃ
৥ আবু মাহফুজ আব্দুস সালাম



قال الله تعالى : ﴿ والوالدات يرضعن أولادهن حولين كاملين لمن أراد الرضاعة – وعلى المولودله رزقهن وكسوتهن بالمعروف . . . . ﴾ {سورة البقرة : ২৩৩}.
মহান আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন : ‘‘আর যে কেউ স্তন্যপানের কাল পূর্ণ করতে ইচ্ছে করে, তার জন্যে জনণীগণ পূর্ণ দু’বছর স্বীয় সন্তানদেরকে স্তন্যদান করবে। আর সন্তানের জনকগণ বিহিতভাবে প্রসূতিদের খোরাক ও তাদের পোষাক দিতে বাধ্য; কাউকেও তার সাদ্যের অতীত কষ্ট দেয়া যায় না...। (সূরা বাক্বারা : ২৩৩)।


 আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়ঃ
 শিশুকে স্তন্যদান করা মাতার উপর ওয়াজিব। কোন অসুবিধা ব্যতীত ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বা অসন্তুষ্টির ধরুণ স্তন্যদান থেকে বিরত থাকা অন্যায় এবং স্তন্যদানের জন্য স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে কোন প্রকার বিনিময় নিতে বা গ্রহন করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা (স্বামী-স্ত্রী) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে। কেননা, এটা স্ত্রীরই দায়িত্ব ও কর্তব্য।


 স্তন্যদানের সময় বা মেয়াদ পূর্ণ দু’বছর। যদি কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে বন্ধ করার প্রয়োজন না হয়, তবে তা বাচ্চার অধিকার। দু’বছর পর স্তন্যদান বেধ নয়, তবে কুরআনের আয়াত ও হাদীছের আলোকে ইমাম আবূ হানিফা (রহঃ) শিশুর দুর্বলতার ক্ষেত্রে আড়াই বছর পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন।

 মাতা শিশুকে স্তন্যদান দুগ্ধপান করাবে, স্বামী স্ত্রীর যাবতীয় খোরপোষ বহন করবে।

 শিশুকে মাতা কর্তৃক স্তন্যদান বা দুগ্ধপান থেকে বিরত থাকা বা ভিন্ন পদ্ধতিতে শিশুকে দুগ্ধপান করানো Human Right’s তথা মানবাধিকার লঙ্গনের অন্তর্ভূক্ত। যা কঠিন ও গর্হিত, ক্ষমার অযোগ্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 ইসলামী শরীয়াতের দৃষ্টিতে শিশুকে স্তন্যদান বা দুগ্ধপান করানোর তাৎপর্য ও ফজিলতঃ

 শিশুকে স্তন্যদান ও দুগ্ধপান করানোর জন্য দুধের প্রতিটি ফোটার বিনিময়ে মাতাকে সদক্বার পূণ্য বা সাওয়াব দেয় হবে।


 কথিত আছে সন্তানের শরীরের চামড়া দ্বারা মার জুতা বানিয়ে দিলেও দুধের এক ফোটার মূল্যও পরিশোধ হবে না।

 ঐতিহাসিক বর্ণনামতে একজন মাতা তার সন্তানকে পূর্ণ দু’বছর বা (প্রয়োজন বশতঃ) আড়াই বছরে ৪০ মতান্তরে ৪৪ মণ দুধ পান করান।

 ইসলামে মার শাল দুধের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, মার শাল দুধ শিশুর সকল রোগের প্রতিশেধক।

 শিশুকে স্তন্যদান বা দুগ্ধপানে মেডিকেল সাইন্সের থিওরীঃ ও শিশুকে স্তন্যদান বা দুগ্ধপানের উপকারিতাঃ

 সন্তান প্রসবের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে জরায়ু তাড়াতাড়ি সঙ্কুচিত হয়। তাতে গর্ভফুলও তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসে এবং মার (প্রসূতির) প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণের আশঙ্কাও কমে যায়।


 শিশুকে সময়মত বুকের দুধ খাওয়ালে শিশু আত্মবিশ্বাসী হয়।

 বুকের দুধ খাওয়ালে শিশু অপেক্ষাকৃত কম অসুস্থ হয়।

 যে সব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদেও স্বাস্থ্য সুন্দর ও সুস্থ্য থাকে।

 শিশুকে পাঁচ মাস শুধু দুধ খাওয়ালে স্বাভাবিক ভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ হয় এবং দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ালে ঘনঘন গর্ভবর্তী হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

 শিশু মায়ের বুকের দুধ খেলে পেটের অসুখ, সর্দি-কাশি ও নানা চর্ম রোগ থেকে রক্ষা পায়।

 মার বুকের দুধ শিশুর সকল রোগের প্রতিষেধকতূল্য।
তথ্যসূত্রঃ স্বাস্থ্য ও নিরাময়।

No comments:

Post a Comment