বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহীম
আল্লাহ ও রাসূল (সা) কে জীবনের সবকিছুর উর্ধ্বে ভালবাসতে হবেঃ
আব্দুসসালাম হুসাইন আলী
১. আল্লাহকে জীবনের সবকিছুর উর্ধ্বে ভালবাসা সম্পর্কে দলীল :
ক. মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ
অনুবাদ : ‘আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে
আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর
প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তূ যারা আল্লাহর প্রতি
ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হ'ত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা
শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর। [সূরা বাক্বারা : ১৬৫]।
খ. মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা
স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা
ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর
তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী অত্যাচারী। [সূরা তাওবাহ : ২৩]।
গ. মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
‘বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের
ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত
ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের
বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্তদ কর-আল্লাহ্, তাঁর
রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে
অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ্ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।’ [সূরা তাওবাহ :
২৪]।
ঘ. মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
إِنَّ
اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ
لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ
وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ
أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي
بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
‘আল্লাহ্ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল
এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ
করে আল্লাহর রাহে: অত:পর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও
কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর
চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্তিদত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা
করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য। [সূরা তাওবাহ : ১১১]।
ঙ. মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
‘যারা আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস
করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন
না, যদিও তারা তাদের পিতা,
পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোন্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ্ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য
শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে
নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তূষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তূষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই
সফলকাম হবে।’ [সূরা মুজাদালা ; ২২]।
২. রাসূল (সা) কে জীবনের সবকিছুর উর্ধ্বে ভালবাসা সম্পর্কে দলীল :
ক. মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেণ :
قُلْ
إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ
لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
‘বল, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে
আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদরেকে ভালবাসবনে
এবং তোমাদরে অপরাধসমূহ ক্ষমা করবনে। বস্তুতঃ
আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল,
পরম দয়ালু।’ [সূরা
ইল-ইমরান : ৩১]।
খ. আনাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন
:
لاَ
يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ
وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
তোমাদরে কেউ প্রকৃত মু’মনি হতে পারবে না, যতক্ষণ না
আমি তার নকিট তার পিতা,
তার সন্তান ও সব মানুষরে অপক্ষো অধকি প্রিয়পাত্র হই। [বুখারী ১৫, মুসলমি ৪৪, আহমাদ ১২৮১৪]।
গ. আনাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন
:
ثَلاَثٌ
مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلاَوَةَ الإِيْمَانِ أَنْ يَكُونَ اللهُ وَرَسُولُهُ
أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ
إِلاَّ للهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ
يُقْذَفَ فِي النَّارِ
তনিটি গুণ যার মধ্যে আছ, সে
ঈমানরে স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে : (ক) আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তার নকিট অন্য সকল
কিছু হতে অধকি প্রিয় হওয়া।
(খ) কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসা। (গ) কুফরীতে প্রত্যার্বতনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মত অপছন্দ করা। [বুখারী ১৬, মুসলমি ৪৩, আহমাদ ১২০০২]।

No comments:
Post a Comment